আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলে ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার মেসি

প্রতিদ্বন্দী দুইজনের চেয়ে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স লক্ষণীয় ছিল না। তবে ভোটাভুটিতে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসি জয় করেছেন 'দা বেস্ট ফিফা মেন’স প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড’ ২০২৩ সালে।

লন্ডনে সোমবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ‘দা বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে পুরস্কারটির বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। মেসি উপস্থিত ছিল না এই অনুষ্ঠানে। পুরস্কারটি জয়ের সম্ভাবনায় ম্যানচেস্টার সিটির হালান্ডকে এগিয়ে রাখা হয়েছিল, তবে মেসি এতেই জয় করেন।


গত সেপ্টেম্বরে ফিফার বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রথমে ১২ জনের তালিকা দিয়েছিল, তাদের মধ্যে সংক্ষেপে তিন জনের তালিকা ডিসেম্বরে প্রকাশ হয়েছে ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দা ইয়ার এওয়ার্ডে।

এবার পুরস্কারটি জয় করতে মানচেস্টার সিটির ট্রেবলজয়ী স্ট্রাইকার হালান্ডকে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। ২০২২-২৩ মৌসুমে সিটির জার্সিতে নরওয়ের তারকার পারফরম্যান্স ছিল রীতিমতো চোখধাঁধানো। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড ৩৬ গোল করেন হালান্ড। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেন ক্লাব রেকর্ড ৫২ গোল। সেরার জন্য বিবেচিত সময়ে ৩৩ ম্যাচে তার গোল ছিল ২৮টি।


ফিফার ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দা ইয়ার এওয়ার্ডে মেসির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি


 লড়াই হয়েছে হালান্ডকের সঙ্গে। ভোটাভূটিতে দুইজনেই সমান ৪৮ স্কোরিং পয়েন্ট পেয়েছেন। কিন্তু (নিয়মের ধারা অনুযায়ী) জাতীয় দলের অধিনায়কদের পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যকবার প্রথমে থেকে এগিয়ে যান মেসি। এমবাপে ৩৮ স্কোরিং পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।


বিভিন্ন নামে ১৯৯১ সাল থেকে বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার দিয়ে আসছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থাটি। শুরু থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দা ইয়ার’ নামের পুরস্কারটি একবার জেতেন মেসি, ২০০৯ সালে। সেই থেকে শুরু সেরার মঞ্চে এই মহাতারকার আধিপত্যের।


পরের ৬ বছর ফরাসি ম্যাগাজিন ‘ফ্রান্স ফুটবল’ আর ফিফা মিলে দেয ফিফা ব্যালন দ’র। এই পুরস্কারটি মেসি জেতেন ২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৫ সালে। এরপর বর্তমানের ‘দা বেস্ট’ নাম দেয় ফিফা, যেটি মেসি প্রথম জেতেন ২০১৯ সালে। এরপর টানা দুইবার পুরস্কারটি জিতলেন তিনি।


গতবার মেসির বর্ষসেরা হওয়ায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল কাতার বিশ্বকাপে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স। ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে দলকে বিশ্বকাপ জেতানোয় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।


তবে বিশ্বকাপ এবারের পুরস্কারের জন্য বিবেচিত সময়ের মধ্যে ছিল না। সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনে ২০২২ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই সময়ে পিএসজির লিগ আঁ শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন মেসি। প্যারিসে নিজের দ্বিতীয় মৌসুমে লিগে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করেন তিনি।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.